বিপদের বন্ধু পুলিশকে বিপদের সময় কাছে ডেকে কিভাবে বাশ দিতে হয় তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ দেখে যান| সেইসাথে আপনারাই বিচার করুন পুলিশকে আপনারা কতটুকু বন্ধু ভাবতে পারেন। দয়া করে এটাও বলে যাবেন সমাজের ভিকটিম কি আমি(পুলিশ) না আপনি?
আর এই ক্ষেত্রে আমাদের জাতির বিবেক মিডিয়ার ভুমিকার কথা আর নতুন করে বলার কিছুই নেই।
সব মিলিয়ে আজকের (রবিবারের) এই ঘটনা আবারো প্রমাণ করলো , পুলিশ যতই ভালো কাজ করুক না কেন বা বিপদের মুহুর্তে জনগণের ডাকে ভালো কাজ করতে এগিয়ে যাক না কেন সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে বাই চান্স যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই যায় আমাদের সচেতন সমাজ , সমাজের দর্পণ মিডিয়া, মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে সুশীল , কুশীল , সচেতন ,অচেতন, মদ খোর, গাঞ্জা খোর যারাই আছে সবাই পুলিশের বিরুদ্ধে আইক্ষা ওলা বাশ নিয়েই দাড়িয়ে যাবে।
কেউ খোজ নিয়ে জানারও চেষ্টা করবে না আসল ঘটনাটি-ই বা কি।
শনিবার রাতের একটি ঘটনা বিভিন্ন মিডিয়াতে দেখে এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে মনের দুঃখে কথা গুলো বলতে বাধ্য হচ্ছি। ক্ষমা করবেন এই মুর্খের এমন প্রতিক্রিয়ার জন্য।
যেহেতু ঘটনাটি রংপুরের এবং আমি যেখানে আছি সেই স্থান থেকে বলতে গেলে অল্প কিছু দুরে, তাই ঘটনাটি নিয়ে দু চারটি কথা না বলে পারছি না।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে কাউনিয়া থানাধীন হারাগাছ এলাকার একটি বাজারে! ঘটনার সুত্রপাত আইপিএল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে।
অত্যন্ত বিশ্বস্ত একটি সুত্রে জানতে পেরেছি, খেলা চলাকালীন সময় একটি দোকানে নিছক ঠাট্টা মসকরার ছলে কোন বলে কে আউট হবে নাকি ৪/৬ মারবে তা আগাম বলাবলি শুরু হয়ে যায়।
এক সময় তা রুপ নেয় জুয়ার পর্যায়ে। টাকা এমাউন্ট ধরে ডাক উঠে !
এক সময় টাকা পয়সার দেনা পাওনা নিয়ে দ্বন্দ শুরু হয় । প্রথমে কথা কাটাকাটি! তারপর ধাক্কাধাক্কি থেকে রুপ নেয় হাতাহাতির পর্যায়ে।
খবর চলে যায় পুলিশের কাছে। বিপদের বন্ধু পুলিশ জনগণের ডাকে কালক্ষেপন না করে দ্রুত ছুটে আসে ঘটনাস্থলে!
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ারী গ্রুপ যে যার মত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে একজন কিছুদুর গিয়ে নিজেই মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়া পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঘটনার সময় উপস্থিত কারো কারো ধারণা ছিল পুলিশের ভয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে হয়তো হার্ট এটাক করেই তার এমন অবস্থা হয়েছে! যেখানে নির্যাতন নামের কোন ঘটনাই ঘটলো না সেখানে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হয়েছে নির্যাতনের!
যেন ঘটনার দায় সব পুলিশের উপর্। পুলিশ এবং র্্যাবের গাড়ি ভাংচুর করা হলো। ভাংচুর এবং অগ্নি সংযোগ করা হলো পুলিশ ফাড়িও।
আইপিএল খেলা দেখা নিয়ে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঝামেলা থামাতে পুলিশের যে এসআই তার দায়িত্ব পালন করার জন্য এগিয়ে গেলো তাতক্ষনিক সাসপেন্ড করা হলো তাকে।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তাকেই ভিলেইন বানিয়ে দেওয়া হলো। মিডিয়ার বদৌলতে চমৎকার চমৎকার সব শিরোনাম দেখে মানুষও পুলিশ সম্পর্কে কি চমৎকার একটা ধারণাই না পেলো।
